লতাফট্কি গাছ বাংলাদেশের সমতল ভুমিতে জন্মে। এ গাছ সাধারণতঃ জঙ্গলের ধারে, পতিত জমিতে, রাস্তার পাশে দেখা যায়। এটি দেখতে অনেকটা উচ্ছে গাছের মতো। ইহা অযত্ন সম্ভূত বর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। বৎসরের সবসময়ই ফুল ও ফল হয়। পাতা ও উচ্তে পাতার মতো। ফুল সাদা ও ছোট ছোট, ফল সুক্ষ্ম রোমযুক্ত, গোলাকার অনেকটা বাষ্প ভরা টেপারী ফলের মতো ভিতরে বীজ থাকে। বিীজটি পাকলে কালো বর্ণের হয়। লতাফট্কি সন্ধিপ্রদাহ নিবারক, কর্ণবেদনা ও খিচুনী প্রশমক, ক্ষতসারক, জ্বরনাশক, বমনকারক, মৃদুবিরেচক, ঋতুস্রাব নিঃসারক, কোমরব্যথা, কটিশুল, ও উচ্ছ রক্তচাপে কার্যকরী। লতাফট্কিতে স্যাপোনিন, ফ্ল্যাভনস, স্টেরল এবং উদ্বায়ী তেল বিদ্যমান রয়েছে। পাতায় পিনিটল ক্রাইসিরিওল এবং লুটিওলিন। লতাফট্কি মূলে বিটা-সিটোস্টেরল বিদ্যমান থাকায় ইহা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। গাছের পাতা, মূল ও বীজ ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ৩-৪ ফোঁটা পাতার রস সামান্য গরম করে দিনে ২/৩ বার করে কানে দিলে কর্ণশূলে উপকার পাওয়া যায়।
- প্রয়োজনমত পাতা ও গাছের মূল একত্রে পিষে আক্রান্ত স্থানে নিয়মিত কিছুদিন প্রলেপ দিলে গেঁটেবাতে উপকার পাওয়া যায়।
- ২ গ্রাম পরিমাণ শিকড়চূর্ণ ২০০ মিঃলিঃ ডাবের পানিসহ নিয়মিত কয়েক দিন সেবন করলে মুত্রকৃচ্ছতা ও জ্বালা-যন্ত্রণা দুর হয়।
- ১ গ্রাম পরিমাণ মূলচূর্ণ , সমপরিমাণ অশ্বগন্ধাচূর্ণ মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন দৈনিক ২ বার করে দুধসহ সেবন করলে স্নায়বিক বেদনা ও কঠিশূলে উপকার পাওয়া যায়।



