শজিনা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ । ইহা একটি বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ। এ গাছের ডাল খুব নরম প্রকৃতির হয়। ফুল সাদা ও লাল দু’ধরনেরই হয়ে থাকে। ফল ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। ফলের ভিতরে ত্রিকোণাকৃতির বীজ হয়ে থাকে। শজিনা গাছে বছরে ২ থেকে ৩ বার ফুল ও ফল হয়। শজিনা গাছের ছালে অ্যালকালয়েড, পাতায় প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ দ্রব্য বিদ্যমান। শজিনা ক্ষুধাবর্ধক, হজমকারক, মুত্রকারক, ব্যথানিবারক, সন্ধিব্যথা, কোমড় ব্যথা, গেটেবাত, লিভার বৃদ্ধি ও পলীহার বৃদ্ধিতেি উপকারী। শজিনা গাছের শিকড়, ছাল, আঠা, পাতা, ফুল ও ফল ঔষধে ব্যবহার হয়ে থাকে। ইহা সর্বপ্রকার ব্যথা ও বাতের ব্যথায় বিশেষ কার্যকরি।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- শরীরের কোন স্থানে ব্যথা হলে বা ফোলে গেলে সজিনা গাছের শিকড় শিল পাটায় বেটে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিলে ব্যথা এবং ফোলা সেরে যাব।
- সিরকায় তৈরি সজিনা ফলের আচার সন্ধিব্যথা, কোমড় ব্যথা, ও পক্ষাঘাত রোগ দ্রুত নিরাময় হয়।
- শজিনা গাছের শিকড়ের রস কানে দিলে , কান ব্যথা নিরাময় হয়।
- শজিনা গাছের শিকড়ের রস গরুর দুধের সাথে একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন খেলে মুত্র অবরোধ দূর হয়, প্রস্রাব বৃদ্ধি পায়। বৃক্ষ ও মুত্র থলীর পাথর চুর্ণকারক। ইহা হাঁপানী, স্বরভঙ্গ ও গলার ভিতরের ক্ষত নিবারন করে।
- শজিনা গাছের শিকড়ের টাটকা রস এবং সরিষা (১ঃ২০ ভাগ) বেটে ১০ মিঃ গ্রাঃ করে নিয়মিত কিছুদিন খেলে প্লীহা ও লিভার বৃদ্ধিজনিত রোগ নিরাময় হয়।
- শজিনা পাতা বেটে ,পরিমান মত রসুন, হলুদ,গোলমরিচ ও লবন একত্রে মিশিয়ে সেবন করলে কুকুরের বিষ নষ্ঠ হয়।
- শজিনা বীজের তেল মালিশ করলে শরীরের বিভিন্ন বাত ব্যথা অনুভূতিহীনথা রোগে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
- শজিনার ছাল ও আঠা গর্ভপাতকারক। গর্ভাশয়ের মূখে প্রবেশ করালে জরায়ুর মূখ প্রশারিত হয়, ফলে গর্ভপাত হয়ে যায়।
- শজিনার ফুল দুধের সাথে সেবন করলে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়।
- ১৫ মিঃলিঃ পরিমাণ শজিনা গাছের ছালের রস ও সামান্য পরিমাণ রসুন একত্রে পিষে নিয়মিত কয়েকদিন আক্রান্তস্থানে প্রলেপ আকারে ব্যবহার করলে বাত ব্যথা ও স্নায়ু শুলে উপকার পাওয়া যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য জানতে পারবেন। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান,ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস,(ঢাকা), কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



