পাথরকুচি একটি বহু বর্ষজীবী গুল্ম জাতীয় ঔষধী উদ্ভিদ। পাথরকুচি গাছ সাধারণত ১ থেকে ২ ফুট উচু হয়। পাথরকুচি পাতা মাংসল, মসৃন ও ডিম্বাকৃতির হয়। পাথরকুচি পাতাকে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী বলে মনে করা হয়। পাথরকুচির পাতা নিয়মিত সেবনে রোগীরা পেটে পাথর থেকে শুরু করে মাথাব্যথা, যোনিপথে সংক্রমণ, রক্তচাপ ইত্যাদি নানা সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্ ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পাথরকুচি পাতায় ফলিক অ্যাসিড, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, এবং ফসফোরাস সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায়। যাহা শরীরের চাহিদা পুরণ করে। এছাড়া, এই পাতা ভিটামিন সি এবং আন্টি-অক্সিড্যান্ট সরবরাহ করতে সাহায্য করে, যা শরীরের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ১০ মিঃলিঃ পাথরকুচি পাতার রস ও ৬০ মিঃলিঃ গরম পানি একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত ৫ থেকে ৭ দিন সকাল-সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করলে , শরীরের জ্বালাপোড়া দুর হয়ে স্বাভাভিক অবস্থায় ফিরে আসে।
- ১০ মিঃলিঃ পাথরকুচি পাতার রস দৈনিক ২/৩ বার করে ২/৩ দিন সেবন করলে পিত্তজনিত ব্যথা ও শরীরের অভ্যান্তরীন রক্তক্ষরণ সেরে যায়।
- ২/৩ টা পাথরকুচি পাতা ও ২ টা গুলমরিচ একত্রে পিষে নিয়মিত ৩০ থেকে ৪০ দিন সকাল-সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করলে , কিডনী ও গলব্লাডারের পাথর অপসারণ হয়।
- ২০ থেকে ৩০ মিঃলিঃ পাথরকুচি পাতার রস নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা খালি পেটে সেবন করলে, যারা ডায়াবেটিস রোগে আছেন, তাদের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
- ২ টা পাথরকুচি পাতা দৈনিক ২/৩ বার করে ২০/২৫ দিন সেবন করলে আমাশয় থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে।
- ২০ মিঃলিঃ পাথরকুচি পাতার রস ও সমপরিমাণ লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত ২ মাস সকালে খালি পেটে সেবন করলে, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
- ৫ মিঃগ্রাঃ শুস্ক পাথরকুচি পাতা চুর্ণ দিয়ে চা তৈরি করে নিয়মিত কিছুদিন সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিণ্য সেরে গিয়ে স্বাভাবিক মল ত্যাগ হবে।
- পাথরকুচির পাতা দিয়ে জুস তৈরি করে নিয়মিত ২০/২৫ দিন সেবন করলে, জন্ডিস, লিভার প্রদাহ, প্লীহা প্রদাহ ও মুত্রাশয়ের প্রদাহের উপকার পাওয়া যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।



