পলাশ মাঝারী ধরনের এক প্রকার ভেষজ বৃক্ষ। গাছের গোড়ার দিক ফাটা ফাটা হলে ও শাখা-প্রশাখা গুলো মসৃণ। সাধারণত গাছ ৮-১০ মিটার উচু হয়। গাছের বাকল মোটা , অমসৃণ ও ছাই বর্ণের। বাকল কাটলে লাল রঙের কস বের হয়। ইউনানী পরিভাষায় একে চুনিয়া গোন্দ বা গোন্দসঢাক বলে। ফাল্গুণে গাছের পাতা পড়ে যায়, আর তখই ফুলের কু৭ড়ি আসে এবং চৈত্র মাসে ফুল ফুটে। পলাশ ফুলের কুঁড়িগুলো দেখতে অনেকটা বাঘের নকের মত। ফুলের রং সাদা, গাঢ় লাল, হলুদ, কিংবা লালচে কমলালেবুর রঙের হয়ে থাকে।পলাশ যৌন উদ্দীপক, ক্রিমিনাশক, মুত্রবর্ধক, সংকোচক, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিবারক। শ্বেত প্রদর, রক্তপ্রদর , অর্শ ও পাকস্থলীর ব্যাথা নিরসনে কার্যকরী। পলাশে বুটিয়া গাম, কিনোটিক , এসিড, বিউট্রিন, আইসো-বিউট্রিন, লিউপিওল, বিটা-সিস্টেরল এর মত উপাদান বিদ্যমান থাকে। ঔষধে গাছের বাকল, পাতা, ফুল, বীজ ও গাছের আঠা ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ১ গ্রাম পরিমাণ আঠা ও সমপরিমান অশ্বগন্ধা চুর্ণ একত্রে মিশিয়ে ২ চা-চামচ মধু সহ নিয়মিত ২০-২৫ দিন , দৈনিক ২ বার দুধের সহিত সেবন করলে স্নায়ুবিক দুর্বলতা ও শুক্রতারল্যে উপকার পাওয়া যায়।
- ১ গ্রাম পরিমাণ আঠা ও সমপরিমান ডালিম ফুল চুর্ণ একত্রে মিশিয়ে ২ চা-চামচ মধু সহ নিয়মিত ১-২ মাস , দৈনিক ২ বার পানির সহিত সেবন করলে যে কোন প্রকার প্রদর সেরে যায়।
- ২-৩ গ্রাম বীজ চুর্ন আধা কাপ গুলঞ্চের রসের সাথে পরিমাণ মত মধু দিয়ে নিয়মিত ৩ দিন , দৈনিক সকাল-সন্ধায় সেবন করলে ক্রিমি নাশকের কাজ করে।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



