ঘৃতকুমারী ১ থেকে ২ ফুট উচু সরালো উদ্ভিদ। পাতা লম্বা ও মোটা, গোড়া হতে মাথার দিকে ক্রমশঃ সরু, পাতার কিনারা কাটা যুক্ত। পাতার নিচের দিক বৃত্তাকার। ঘৃতকুমারী পাতার অভ্যন্তরে জমাট বাঁধা পিচ্ছিল পদার্থ ব্যবহার হয়ে থাকে। পিচ্ছিল পদার্থটি জ্বাল করে শুকিয়ে ঘনীভুত করলে তাকে মুছাব্বর বলা হয় । ঘৃতকুমারী প্রদাহনাশক, বাতনাশক, পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক, প্লীহা ও লিভার প্রদাহ নাশক। কোষ্ঠকাঠিন্য, মেদ, বলবর্ধক, শুক্রবর্ধক, যারা শুক্রমেহ রোগে ভোগেন তাদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী। ঋতু বদ্ধতা ও ত্বকের লাবণ্যতায় উপকারী। ঘৃতকুমারী পাতায় ইমোডিন, ক্রাইসোফ্যানিক এসিড সহ বিভিন্ন এন্থ্রাকুইনোন গ্লাইকোসাইড, স্যাপোনিন,স্টেরল, কুমারিন, টার্পিন ও ভিটামিন বিদ্যমান থাকায় এটি মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। ঘৃতকুমারী পাতার ভেতরের মজ্জা ও রসালো পিচ্ছিল দ্রব্য ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ ।
- ৫ গ্রাম পরিমাণ ঘৃতকুমারীর মজ্জা নিয়মিত কিছুদিন গরম পানিসহ সকালে খালি পেটে ও রাতে শয়নকালে সেবন করলে ঋতু বদ্ধতায় উপকার পাওয়া যায়।
- ঘৃতকুমারীর রস অগ্নিদগ্ধ রোগীর ক্ষতস্থানে প্রয়োগ করলে দ্রুত নিরাময় হয়।
- ৫ গ্রাম পরিমাণ ঘৃতকুমারীর মজ্জা নিয়মিত কয়েক দিন দৈনিক ৩ বার করে সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিণ্য দুর হয়ে স্বাভাবিক মল ত্যাগ হবে।
- মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব বন্ধ হলে ঘৃতকুমারীর পাতার শাঁস নিয়মিত কিছুদিন খেলে মাসিক ঋতুস্রাব স্বাভাবিক করতে বিশেষ কার্যকরী।
- ঘৃতকুমারী পাতা গরম করে , তার গরম শাঁস মধুর সাথে মিশিয়ে কিছুদিন সেবন করলে সর্দি-কাশি রোগে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
- ৭ গ্রাম পরিমাণ ঘৃতকুমারীর মজ্জা নিয়মিত কিছুদিন গরম পানিসহ সকাল-সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করলে বাতব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।
- ঘৃতকুমারী পাতার শাঁস হজম কারক এবং লিভারের কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে।
- ঘৃতকুমারী জন্ডিস ও ক্রিমি নাশক।
- আধুনিক প্রসাধুনিতে ঘৃতকুমারীর ব্যবহার বহুল। ঘৃতকুমারী চুলের পুষ্ঠি যোগীয়ে চলকে ঝলমল রাখে।
- পরিমাণমত ঘৃতকুমারীর মজ্জা ও রস পেস্ট করে নিয়মিত কিছুদিন পর পর ত্বকে লাগিয়ে ২০/২৫ মিনিট পর গোসল করে নিলে ত্বকের লাবণ্যতা বৃদ্ধি পায়।
- যে সব পুরুষগণ শুক্র স্বল্পতা , ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভুগে থাকেন, নিয়মিত কিছুদিন ঘৃতকুমারীর জুস খেলে যৌবনী শক্তি বৃদ্ধি পাবে।




২ বেলা খাওয়া যাবে
ReplyDeleteখেতে পারবেন
Delete