নিম বৃহদাকারের বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট ভেষজ বৃক্ষ। নিম গাছ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট পযর্ন্ত উচু হয়। পাতা এক পক্ষল যৌগিক, পাতা কিঞ্চিৎ বাঁকা, কিনারা করাতের মত কর্তিত। ফুল শ্বেতবর্ণ এবং এক প্রকার মিষ্টি গন্ধ বিশিষ্ট। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে পীত বর্ণ বা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। ইহা কফ, পিত্ত, বমি, ক্রিমি, ব্রণ, কুন্ড, কুষ্ঠ, ও চর্মরোগ নাশক, শরীরের জ্বালা-পোড়া, বুক জ্বালা নিবারক, শোথ রোগ নাশক, মুখের দুর্গন্ধ নাশক, দাঁত ও মাড়ি মজবুত কারক, ক্ষতনিবারক ও রক্ত পরিস্কারক। পাতা, ছাল, ফুল, ফল, বীজে নিম্বিন, নিম্বিডিন, নিম্বিনিন, টার্পিনয়েড, গ্লাইকোসাইড,অ্যালকালয়েড ও ট্যানিন বিদ্যমান থাকায় ইহা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আমাদের দেশে নিম সাধারণত দুটি ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যবহ্নত হয়। একটি হল দাঁতের মিচওয়াক হিসাবে নিম ডালের ব্যবহার এবং অন্যটি হল বিভিন্ন চর্মরোগে নিম পাতার ব্যবহার। নিম পাতা, ফুল, ফল ও বীজ ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাবলিঃ
- নিমের কঁচি ডাল দ্ধারা দাতন করলে দাঁত পরিস্কার ও মজবুত হয় এবং চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়।
- পরিমাণমত কাঁচা নিম পাতা ও সামান্য পরিমান কাঁচা হলুদ একত্রে ভালভাবে পিষে নিয়ে ,নিয়মিত ৭/৮ দিন আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিলে খোঁস পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষতে উপকার পাওয়া যায়।
- নিম পাতা বেটে হাল্কা গরম করে ফোড়া বা বসন্তের গুটিতে দিলে দ্রুত নিরাময় হয়।
- ১০ গ্রাম পরিমাণ কাঁচা নিম পাতা ৩০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল করে ১০০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে নিয়মিত কিছুদিন সেবন করলে রক্ত পরিস্কার হয় ও চর্ম রোগে উপকার পাওয়া যায়।
- এক চা-চামচ নিম পাতার রস এক চা-চমচ মধুর নাথে একত্রে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে জন্ডিস রোগে দ্রুত আরোগ্য লাভ হয়।
- প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আধা চা-চামচ পারমাণ নিম ছাল চূর্ণ পরিমাণমত লবনসহ ২/৩ দিন খেলে পেটের ক্রিমি মরে বের হয়ে যাবে।
- ১০ টি তাজা পরিস্কার নিমপাতা ও ৫টি গোলমরিচ সকালে খালি পেটে চিবিয়ে খেলে রক্তের শর্করা ( Blood Suger) কমে যায়।
- নিমের ছালের আধা চা-চামচ রস এক কাপ পরিমাণ কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে ৭/৮ দিন খেলে স্বপ্নদোষ রোগ দ্রুত নিরাময় হয়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন। ধন্যবাদ।
নিম গাছ বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়।



