তেলাকুচা একটি বর্ষজীবী লতানো ভেষজ উদ্ভিদ। ইহা অন্য গাছকে বা অন্য কোন ধারককে আশ্রয় করে বেড়ে উটে। পাতা পাঁচকোণ বিশিষ্ট এবং কিনারা করাতের মত ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি ব্যাস। ফল পটলের মত ১.৫ থেকে ২ ইঞ্চি লম্বা। ফল কাচা অবস্থায় সবুজ মসৃণ তেল তেল ভাব ও গায়ে সাদা সাদা ডোরা কাটা দাগ থাকে এবং পাকলে লাল হয়। প্রায় ১২ মাস ফুল ও ফল হয়। তেলাকুচা প্রতিবন্ধকতা দুর করে। তেলাকুচা মস্তিস্কের শীতলতা জনিত রোগ, মাথা ব্যথা, ও মালেখুলিয়া নাশক। তেলাকুচা অর্দ্ধাঙ্গ, ফালেজ, সন্ধি ব্যথা, বাত ব্যথা, ও দাঁতের ব্যথা নাশক। মস্তিস্ক পরিস্কারক ও ডায়াবেটিস ( বহুমুত্র ) রোগে বিশেষ উপকারী। তেলাকুচায় লিউপিওল, বিটা-এমাইরিন, বিটা-সিস্টেরল, স্টেরল, সেফাল্যান্ডিন এর মত মুল্যমান উপাদান বিদ্যমান থাকায় ইহা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। তেলাকুচা পাতা ও মূল ঔষধে ব্যবহার হয়ে থাকে।
সাধারণ গুণাবলীঃ
- তেলাকুচার পাতা ও মূলের রস ৩ চা-চামচ পরিমান নিয়ে হালকা গরম করে নিয়মিত প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় খালী পেটে খেলে ডায়াবেটিস রোগে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়্
- বুকে সর্দি বসে গিয়ে হাঁপানীর মত শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তেলাকুচা পাতা ও মূলের রস ৪ চা-চামচ পরিমাণ খেলে সর্দি তরল হয়ে বের হয় এবং শ্বাসকষ্ট দুর হয়ে যায়।
- যে সব ছেলেমেয়ে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানায় প্রস্রাব করে দেয়, তাদেরকে ২ চা-চামচ তেলাকুচা পাতার রস , মধুসহ প্রতিদিন সন্ধ্যায় কিছুদিন খাওয়ালে বিছানায় প্রস্রাব করা বন্ধ হয়ে যাবে।
- তেলাকুচা পাতার রস পিপাসা নিবারক এবং ইহা প্রমেহ রোগ ও নিরাময় করে।
- ২০ মিঃলিঃ পরিমাণ পাতার রস ও সমপরিমাণ সরিষার তেল একত্রে মিশ্রিত করে হালকা গরম করে দৈনিক ২/৩ বার লাগালে মাথা ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।
- ২০ মিঃলিঃ পরিমাণ পাতার বা মূলের রস ও সমপরিমাণ করলার রস একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত ৩ মাস সকাল-সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করলে ডায়াবেটিস রোগে উপকার পাওয়া যায়।
- ৩০ মিঃলিঃ পরিমাণ পাতার রস এক গ্লাস ডাবের পানিতে মিশিয়ে নিয়মিত ৫/৭ দিন দৈনিক ২/৩ বার করে সেবন করলে হাত-পায়ের জ্বালাপোড়া সেরে যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য জানতে পারবেন। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস,(ঢাকা), কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬




এটা কিভাবে খেতে হবে ?
ReplyDelete