শিমূল গাছ অতি বৃহৎ পত্রঝরা বৃক্ষ। ৫০-৬০ ফুট উচু শক্ত কাটাযুক্ত বিশাল কান্ডবিশিষ্ট গাছ। এ গাছ থেকে এক প্রকার আটা বা নির্যাস বের হয়, যার নাম মোচরস।কাটার গোড়া মোটা এবং অগ্রভাগ সরু ও তীক্ষ্ণ। শীতের শেষে গাছের পাতা ঝরে পড়ে এবং বসন্ত কালে ফুল হয়, ফুলের বর্ন লাল। ফল লম্বাটে পাঁচ প্রকোষ্ট বিশিষ্ট। ফলের ভিতরে তুলা ও বীজ হয়। শিমুল শুক্রবর্ধক, প্রদর ও অতিরিক্ত রক্তস্রাবে কার্যকর । মলরোধক, বলকারক, কামোদ্দীপক ও উদরাময়ে উপকারী। গাছের ছালে ট্যানিন, স্টেরয়েল, ফিনেল জাতীয পদার্থ, লুপিয়র, ন্যাপতোকুইনুন, ল্যাকটোন ও গ্লাইকোসাইড বিদ্যমান রয়েছে। শিকড়, বাখল, ফুল, আটা, কচি ফল ও বীজ ঔষধে ব্যবহার হয়ে থাকে।
সাধারণ গুণাবলী:
- এখনো ফুল দিতে আরম্ভ করেনি তেমন শিমূল গাছের শিকড় অত্যন্ত শুক্রবর্ধক। শুস্ক শিকড়ের চুর্ণ ২মি: গ্রা: করে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কিছুদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়। শিমূল চুর্ণ ধ্বজভঙ্গের একটি মহৌষধ।
- কচি শিমূলের শিকড় উত্তেজক,বলকারক, বমনকারক, স্নিগ্ধকারক, ভগ্নস্বাস্থ্য স্থিতিকারক, রক্তরোধক এবং আমাশয় নিরাময় করে।
- শিমূল গাছের বাখলের ক্বাথ যৌনশক্তি বৃদ্ধিকারক এবং জরায়ু হতে অস্বাভাবিক রক্তস্রাব ও প্রদাহ রোধ করে।
- দুধের সাথে শিমূল কাটা পিষ্ট করে মূখে প্রলেপ দিলে ব্রণ ও মেচতা সেরে যায়।
- রক্ত অর্শ বা রক্তস্রাবে ৩মি:গ্রা: শিমূলের ফুলের শুস্ক চুর্ণ এক গ্লাস দুধের সাথে মিশিয়ে দিনে ৩ বার করে কিছুদিন খেলে অত্যন্ত উপকার পাওয়া যায়।
- শিমূলের শুস্ক কচি ফল চুর্ণ সেবনে জননযন্ত্রের দূর্বলতা ও মূত্রযন্ত্রের ক্ষতে দ্রুত আরোগ্য হয়।
- পুরাতন কাশিতে শিমূল পাতার রস মধুসহ সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস,(ঢাকা), কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



