বানরলাঠি একটি পরিচিত মাঝারী ধরনের ২০-৩০ ফুট লম্বা বৃক্ষ। ফুল সুগন্ধিযুক্ত হলুদ বর্ণের। ফলগুলো নলাকৃতির ১-৩ ফুট লম্বা লাঠির মত। কাঁচা ফল সবুজ এবং পাকলে কাল-মিশ্রিত লাল হয়। ফলগুলি ঝুলে থাকে, ফলের অভ্যন্তরে সমদুরত্বে অবস্থীত আধুলীর মত গোলাকৃতির প্রাচীর থাকে, এবং এ প্রাচীরের গায়ে আঠালো চটচটে ফলের মজ্জা থাকে। ইউনানী মেডিসিনের ভাষায় যাকে মগজে ফলসে খেয়ারে শাম্বর বলা হয়। পাতায় ও ফলে এনথ্র্যাকুইনোন গ্লাইকোসাইড, সেনোসাইড, ইমোডিন ইত্যাদি এবং ফলের মজ্জায় উদ্বায়ী তেল বিদ্যমান রয়েছে। কোষ্ঠবদ্ধতা, অগ্নিমান্দ্য, আমবাত, ডায়াবেটিস ও ঋতুস্রাব নিঃসরণে কার্যকরী ভুমিকা রাখে। গাছের শিকড়, ছাল, পাতা, ফল ও ফলের মজ্জা ঔষধে ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ৬-৭ গ্রাম ফলের মজ্জা , এক কাপ গরম দুধ একত্রে মিশ্রিত করে নিয়মিত প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কিছুদিন খেলে , কোষ্টবদ্ধতা দুর হয়ে স্বাভাবিক পায়খানা হবে।
- শিশু, গর্ভবতি মহিলা, দুর্বল প্রকৃতির লোক, ও দুর্বল রোগীদের দাস্ত পরিস্কার করণে এটি একটি উৎকৃষ্ট দাওয়াই , কারন বানরলাঠি ব্যবহারের ফলে যে দাস্ত হয়, তাতে রোগীর শরীরে কোন দুর্বলতার সৃষ্টি হয় না।
- শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি ফুলায় ফলের মজ্জা উত্তম কাজ করে। প্রয়োজন মত বানরলাঠি ফলের মজ্জা, পরিমাণ মত দুধের সাথে মিশিয়ে উত্তমরুপে বেটে টলসিলের উপর প্রলেপ দিলে , কিছুদিনের মধ্যেই সম্পুর্ণরূপে সুস্থ হয়ে যায়।
- শুষ্ক ফলের চুর্ণ ৫ গ্রাম , দৈনিক ৩ বার করে কিছুদিন খেলে মাথাব্যথায় ও মস্তিষ্কের দুর্বলতায় উত্তম কাজ করে।
- শুষ্ক ফলের চুর্ণ ৫ গ্রাম ও ৪ চা-চামচ ভৃঙ্গরাজের রস একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত প্রতিদিন সকালে খালী পেটে ২১-২৫ দিন খেলে দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
- শুষ্ক ফলের চুর্ণ ৫ গ্রাম ,দৈনিক ২ বার নিয়মিত প্রতিদিন খাবারের পর পানি সহ কিছুদিন খেলে , ক্ষুধামান্দা রোগ, পাকস্থলীর দুর্বলতা ও হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ ডি ইউ এম এস (ঢাকা), কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



