লজ্জাবতী গাছ একটি পরিচিত উদ্ভিদ। ইহা বীরুৎ গুল্মজাতীয় লতানো উদ্ভিদ। পাতা স্পর্শ করলেই বিপরীত দিকে নেমে এসে গুটিয়ে যায়, তাই ইহাকে লজ্জাবতী বলা হয়। লজ্জাবতী গাছের পাতায় অ্যালকালয়েড ও এড্রিনালিন এবং গাছের মূলে ট্যানিন জাতীয় উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। লজ্জাবতী রক্ত পরিস্কারক, লাবণ্যতা আনয়নসহ ঋতুস্রাবের ও উপকারী। তাছাড়া প্রদর, অর্শ, আমাশয়, নালী ঘা ও পোরনো ক্ষত নিরসনে খুবই উপকারী। লজ্জাবতী গাছের পাতা,মুল, কান্ড, ফুল ও বীজ ঔষধে ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- লজ্জাবতী শুকনো গাছ আধাচুর্ণ ১০-১৫ গ্রাম পরিমাণ নিয়ে ২৫০ মিঃলিঃ পানিতে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ১২৫ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে পানি টুকু ছেঁকে নিয়মিত প্রতিদিন ৩ বার করে খেলে বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ সেরে যায় ও শরীরের লাবণ্যতা বৃদ্ধি পায়।
- লজ্জাবতী গাছের শুকনো পাতা ও সমপরিমাণ শুকনো শিকড় একত্রে চূর্ণ করে নিয়মিত প্রতিদিন ১ বার পরিমাণমত দুধের সাথে কিছুদিন খেলে অর্শ (পাইলস, গেজ ) ও ভগন্দর ( ফিস্টুলা ) সেরে যায়।
- লজ্জাবতী যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে, বাজীকরণ হিসেবে ইহার বিশেষ ব্যবহার আছে। লজ্জাবতীর বীজ দিয়ে তৈরি তেল শিথিল পুংলিঙ্গে মালিশ করলে লিঙ্গ শক্ত হয়।
- সন্তান প্রসবের সময় মহিলাদের নাড়ি নেমে আসলে ,১৫ গ্রাম পরিমাণ পাতা ও মুল ৪০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল করে ১০০ মিঃলিঃ পরিমাণ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে কিছুদিন খালী পেটে খেলে ও ব্যবহার করলে নাড়ী যথাস্থানে বসে যাবে।
- লজ্জাবতী গাছ শিকড় সহ পাতা ১০ গ্রাম পারমাণ নিয়ে ১ কাপ দুধ ও ৩ কাপ পানির সাথে একত্রে মিশিয়ে জ্বাল করে ১ কাপ পরিমান থাকতে নামিয়ে নিয়মিত কিছুদিন সকাল-সন্ধ্যায় খালী পেটে খেলে রক্তস্রাব ও যন্ত্রণাযুক্ত রক্তঅর্শ রোগ নিরাময় হয়।
- শরীরের কোথাও পচন ( ক্ষত) হলে, কাঁচা লজ্জাবতীর সমগ্র গাছ বেটে নিয়মিত কিছুদিন, দৈনিক ৩ বার আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিলে পচন (ক্ষত) নিরাময় হয়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬


