ছাতিম এক প্রকার বড় ধরনের চিরসবুজ ভেষজ উদ্ভিদ। ইহা সাধারণত ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত উচু হয়। গাছের পুরু ছালের ভিতরটা সাদা ও দানাযুক্ত, কিন্তু উপরিভাগ খসখসে। গাছের সমগ্র অংশে সাদা দুধের মত আঠা থাকে। কান্ডের চারদিকে শাখা-প্রশাখা ছত্রাকারে সাজানো থাকে।শাখার অগ্রভাগে ৭টি পাতা সাজানো থাকে বিধায় একে সপ্তবর্ণী বলে। শরৎকালে ফুল ও শীতকালে সরু বরবটির মত ফল হয়। ছাতিমে অ্যালকালয়েড পিকরিনিন, ডিটামিন, ইকাইটেনিন, পিকরালিনাল, ন্যারিলিন এর মত উপাদান বিদ্যমান থাকায় শরীরবৃত্তিয় সমস্যা সমাধানে ভুমিকা রাখে। স্তন্যদুগ্ধের স্বল্পতা, বাতব্যথা, খোসপাঁচড়া, দাদ, পাঁপড়ি, একজিমাসহ বিভিন্ন চর্ম রোগে উপকারী এই ছাতিম গাছ। ছাতিমের ছাল, পাতা, ফুল ও আঠা ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ২ গ্রাম শুস্ক ছাতিম ফুলের চুর্ণ ও ২০০ মিঃগ্রাঃ পিপুল চুর্ণ এবং পরিমাণ মত মধু একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত দৈনিক ২ বার করে ২ মাস সেবনে, হাপাঁনি ( শ্বাসকষ্ট ), ও ব্রঙ্কাইটিস রোগে উপকার পাওয়া যায়।
- মায়েদের বুকের দুধ কমে গেলে ৫ গ্রাম আধা চুর্ণ ছাতিম ছাল ২০০ মিঃলিঃ পানিতে সিদ্ধ করে, ৫০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে সমপরিমাণ গরুর দুধের সাথে মিশিয়ে , নিয়মিত দৈনিক ২ বার করে ৫/৬ দিন সেবন করলে মায়েদের বুকের দুধ বৃদ্ধি পায়।
- দাঁত ব্যথায়, আক্রান্ত দাঁতে কয়েক ফোঁটা ছাতিমের আঠা দিলে, দাঁতের ব্যথা-যন্ত্রণা সেরে যায়।
- ১০ গ্রাম পরিমাণ ছাতিমের ছাল ৪০০ মিঃলিঃ পানিতে সিদ্ধ করে, ১০০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে নিয়মিত দৈনিক ২ বার করে ১৫/২০ দিন সেবন করলে গেটে বাত ও সন্ধি বাতের ব্যথা উপশম হয়।
- পায়োরিয়া দাঁতকে দুর্বল করে দেয়। ৮/১০ ফোঁটা ছাতিমের আঠা , ১০০ মিঃলিঃ গরম পানিতে মিশিয়ে একদিন অন্তর অন্তর কয়েক দিন গার্গল করলে পাইয়োরিয়া সেরে যায়।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



