শিশু গাছ বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট বৃহৎ আকারের ভেষজ বৃক্ষ। শিশু গাছ ৪০-৫০ ফুট পযর্ন্ত উচু হয়। এর বাকল ধুসর বর্ণের, অমসৃণ, পুরনো হলে লম্বালম্বিভাবে ফাটা ফাটা দাগ হয়। শীতকালে পুরনো পাতা ঝড়তে থাকে এবং বসন্তকালে নতুন পাতা গজায়। এর কাঠ খুব শক্ত, সার কাঠের বর্ণ বাদামী হয়ে থাকে। শিশু গাছ রক্ত পরিস্কারক, রক্তঅর্শ , রক্তস্রাব, গণোরিয়া, খোস-পাচড়া ও বিভিন্ন চর্মরোগে উপকারী। শিশু গাছে মিউসিলেজ, সিশুট্রিন, ডালবার্জিন, ও মিথাঈল-ডালবার্জিন এর মত মূল্যমান রাসায়নিক উপাদান বিদ্যমান থাকায় শরীরবৃত্তিয় সমস্যা সমাধানে ভুমিকা রাখে। গাছের পাতা, বীজ ও বাকল ঔষধে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ২ গ্রাম আধাচুর্ণ পাতা ও সমপরিমাণ চিরতা একত্রে মিশিয়ে এক কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে , আধাকাপ থাকতে নামিয়ে ছেকে ২ চা-চামচ মধুসহ নিয়মিত ২০ থেকে ২২ দিন দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে খোস-পাচড়া ও চুলকানি সেরে যায়।
- ১০ গ্রাম পরিমাণ গাছের ছাল থেতো করে ৪ কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ১/২ দিন সেবন করলে অতিরিক্ত রক্তস্রাবে উপকার হয়।
- ৫ গ্রাম আধাচুর্ণ পাতা ও ২০ গ্রাম গুলহ্চ একত্রে মিশিয়ে এক কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে , আধাকাপ থাকতে নামিয়ে ছেকে ২ চা-চামচ মধুসহ নিয়মিত ১০ থেকে ১২ দিন দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে গণোরিয়া ও প্রস্রাবের জালাপোড়া সেরে যায়।
- ২০ গ্রাম পরিমাণ ছাল কিছু সময় ভিজিযে রেখে চার কাপ পানিতে জ্বাল করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ দিন দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে বাতের ব্যথা সেরে যায়।
- ৫ গ্রাম পরিমাণ শুস্ক ছাল চুর্ণ ও সমপরিমাণ ডালিম ছাল চুর্ণ একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত ৪০ থেকে ৫০ দিন দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে রক্তঅর্শ ভাল হয়ে যায়।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



