বাসক ক্ষুপজাতীয় অধিক শাখা-প্রশাখাযুক্ত ৫ থেকে ৬ ফুট উচু ভেষজ উদ্ভিদ। কান্ড সরল ও শাখা-প্রশাখা বেশি শক্ত নয়। বাসক পাতা আকারে লম্বা এবং পাতলা ও নরম অগ্রভাগ সুচালো, শিরা-উপশিরা বিশিষ্ট। ফুল সাদা, তবে মাঝে মাঝে লাল ছিটযুক্ত দাগ থাকে। বাসক পাতার আর একটি প্রজাতী আছে যে গাছের ফুল লাল। বাসক ফুল-যক্ষা রোগে উপকারী এবং রক্তের উগ্রতা ও পিত্তের তিব্রতা নাশক। গাছের শিকড় ও পাতা সর্দি,কাশি, হাঁপানী, হুপিং কাশি, জ্বর, জন্ডিস, গণোরিয়া ও কুষ্ঠরোগে উপকারী। বাসক পাতা, ছাল ও মূলে কুইনাজোলিন ,অ্যালকালয়েড, জৈব এসিড, স্নেহ দ্রব্য, উদ্বায়ী তেল ও ভিটামিন সি বিদ্যমান থাকায় শরীরবৃত্তিয় সমস্যা সমাধানে ভুমিকা রাখে। বাসকের মূল, পাতা, ফুল ও ছাল ঔষধে ব্যবহৃত হয়। তাজা ও শুকনো উভয় পাতাই ভেষজ গুণসম্পন্ন।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- মাংসপেশিতে টান লাগলে পরিমাণমত হলুদ, চুন ও বাসক পাতা একত্রে বেটে আক্রান্ত স্থানে কয়েক দিন প্রলেব দিলে উপকার পাওয়া যায়।
- ২০ মিঃলিঃ বাসক ফুলের রস নিয়মিত কয়েক দিন সেবন করলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দুর হয়।
- ৩ গ্রাম পরিমান শুস্ক বাসক পাতা চূর্ণ ও সামান্য পরিমাণ পিপূল চূর্ণ এবং ২ চা-চামচ মধু একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত ২০/২৫ দিন , দৈনিক ৩ বার করে সেবন করলে ঠান্ডাজনিত কপ নিঃসরণ হয় এবং শ্বাসকষ্ঠে উপকার পাওয়া যায়।
- কচি বাসক পাতার রস ও হলুদ একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত কয়েক দিন আক্রান্ত স্থানে লাগালে দাদ ও চুলকানি ভাল হয়।
- ১০/১৫ টি বাসক পাতা পানিতে সিদ্ধ করে নিয়মিত কয়েক দিন , দৈনিক ২/৩ বার করে কুলকুচি করলে, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া ও পায়োরিয়ায় উপকার পাওয়া যায়।
- ৩০ মিঃলিঃ কচি পাতার রস ও ২ চা-চামচ মধু একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন, দৈনিক ৩ বার করে সেবন করলে কাশি, শুস্ক কাশি, ও ব্রংকাইটিসে উপকার পাওয়া যায়।
- ২০ মিঃলিঃ বাসক পাতার রস নিয়মিত ২৫ থেকে ৩০ দিন সকাল-সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করলে মূখের ব্রণ দুর হয়।
- ৫/১০ মিঃলিঃ বাসক পাতার রস নিয়মিত সেবন করলে রক্ত পরিস্কার থাকে ও রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- ৫ মিঃলিঃ বাসক পাতার রস ১ চা-চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে শিশুদের সেবন করালে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে উপকার পাওয়া যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



