অশোক বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট একটি মধ্যম আকৃতির ছায়াতরু বৃক্ষ। এই গাছ ২৫ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত উচু হয়। পাতায় ডাটায় সাধারণত ৫-৬ জোড়া পাতা হয়। কচি পাতার রং লালছে তামাটে বর্ণের এবং পরিপক্ক পাতা সবুজ বর্ণের। বসন্তকালে লালচে কমলা বর্ণের ফুল হয়। বর্ষাকালে ৩ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা চওড়া শিম বা শুটি হয়। ফলের মধ্যে ৪ থেকে ৮ টি বীজ হয়। অশোক পাকস্থলী, লিভার ও প্লীহা রোগে বিশেষ কার্যকরী। এছাড়া অতিরিক্ত রক্তস্রাব ও রক্তপ্রদর জনিত জরায়ুর রোগে উপকারী। মধুর সাথে সেবনে অর্দ্ধাঙ্গ, মৃগী ও মুখ বাকা রোগে উপকারী। এর প্রলেপ প্লীহার শক্তভাব এবং সন্ধির ব্যথা নাশক। অশোক ছালে প্রচুর পারমাণে ট্যনিন, হিমাটক্সাইলিন, খনিজ দ্রব্য, কিটােস্টেরল এবং স্যাপোনিন বিদ্যমান রয়েছে। যাহা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। অশোক ছাল, ফুল ও বীজ ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ১৫-২০ গ্রাম পরিমাণ ছাল আধাচূর্ণ করে ২০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল করে ১০০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে নিয়মিত ১ থেকে ২মাস সকার সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করলে মাসিক স্রাবের গোলযোগ সেরে যায়।
- ১০-১৫ গ্রাম পরিমাণ শুস্ক ছাল আধাচূর্ণ করে ২০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল করে ১০০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে নিয়মিত ১ থেকে ২মাস সকাল সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করলে শ্বেতপ্রদর সেরে যায়।
- ১-২ গ্রাম পরিমান বীজ চূর্ণ নিয়মিত কিছুদিন সকাল-সন্ধ্যায় কুসুম গরম পানিসহ সেবন করলে আমযুক্ত মলের সমস্যা দুর হয়ে স্বাভাবিক মল ত্যাগ হয়।
- ১০-১২ গ্রাম পরিমাণ শুস্ক ছাল আধাচূর্ণ করে ৪০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল করে ১০০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে নিয়মিত কিছুদিন দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে স্নায়ু রোগে উপকার পাওয়া যায়।
- ১৫-২০ গ্রাম পরিমাণ শুস্ক ছাল আধাচূর্ণ করে ৪০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল করে ১০০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে সমপরিমাণ দুধসহ নিয়মিত ২৫- ২৭ দিন, মাসিক বন্ধ হওয়ার পর থেকে পরবর্তী মানিকের আগ পর্যন্ত দৈনিক ১ বার করে সেবন করলে যাদের গর্ভ নষ্ট হয়ে যায় বা মৃত সন্তান প্রসব হয়, সেই সকল মায়েদের জন্য খুবই উপকারী ।
আশাকরি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



