আদা দৈনন্দিন রান্নার কাজে মসলা হিসাবে সবার কাছে পরিচিত। আদা আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি ভেষজ উপাদান। ইহার কান্ড মাটির নিচে থাকে। আদা এক প্রকার কন্দ জাতীয় উদ্ভিদ। পাতাগুলো সবুজ ও সুন্দর ভাবে সাজানো এবং সুবিন্যস্ত ৫ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা হয়। হলুদের মত এর কন্দ বা শিকড় ব্যবহার করা হয়। আদাকে শুকনো অবস্থায় শুঠ বা শুন্ঠি বলা হয়। রাইজোম বা কন্দ দ্বারা আদার বংশবৃদ্ধি হয়ে তাকে। আদা আমাদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সমাধান করে দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আদার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম, আয়রণ, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালশিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন-এ, ই, সি ও বি-৬ এবং অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল এজেন্ট ও অ্রান্টি- ইনফ্লামেটরী এজেন্ট, যার ফলে সব বয়সের মানুষই আদা খেতে পারেন। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে দেহ সুস্থ সবল রাখতে সাহায্য করে।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- সর্দি-কাশি,ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রভৃতি জ্বরে আদা-চা একটি উৎকৃষ্ট পানীয় হিসেবে পরিচিত।
- ডিমের কুসুম অর্দ্ধ সিদ্ধ সহ আদা সেবনে শুক্রবৃদ্ধি ও গাড় হয়। পোস্তদানার সাথে সেবনে রতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
- আদার রস ব্যবহারে প্রস্রাব বৃদ্ধি পায় এবং শোথ রোগ ভাল হয়ে যায়।
- আদার তেল ফুলা অপসারক এবং ব্যথা, বাত ব্যথা, সন্ধি ব্যথা, কান ব্যথা, অর্দ্ধাঙ্গ ও স্নায়ুমন্ডলের ব্যথায় বিশেষ উপকারী।
- শুঁঠের গুঁড়া এক গ্রাম মাত্রায় এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে কিছুদিন খেলে পুরাতন আমাশয় ভাল হয়ে যায়।
- শিশুর সর্দি-কাশিতে আদার রস, তুলসী পাতার রস এবং মধু সমপরিমানে খেতে দিলে বিশেষ ফল পাওয়া যায়।
- রসুন ও মধু সহ আদার রস একত্রে খেতে দিলে শ্বাস-কষ্ট রোগে বিশেষ ফল পাওয়া যায়।
- আদার তেল ফুলা অপসারক, সন্ধি ব্যথা, কান ব্যথা ও স্নায়ুমন্ডলের শীতলতায় বিশেষ উপকারী।
আশাকরি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



