আসামলতা এক প্রকার লতা জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ, যা অযত্নেই ঝোপ-ঝাড়ে হয়ে থাকে। রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে, বনে-জঙ্গলে হাজারো উপকারী গাছপালা, লতাপাতার মত আসামলতা ও আমাদের প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি অনেক সুবিধা ও দিয়ে থাকে। আজ আমরা জেনে নিব আসামলতার উপকারীর কথা। অঞ্চল ভেদে এর নাম আসামলতা, রিফুজি লতা, শঙ্খুনি লতা, বুচি লতা, তরুলতা ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। আসামলতা বনে-জঙ্গলে, পতিত জমিতে বা পথের পাশে যেখানেই জন্মে, সে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হতেই থাকে। এর কোন যত্ন নিতে হয় না। এই লতা অতি বৃদ্ধিপ্রবল, একবার বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা অন্য গাছের শাখা-প্রশাখা পর্যন্ত বিস্তার করে। এর পাতার মাথা সরু এবং কিনারা খাঁজ কাটা। পাতায় লোম আবৃত থাকে, গুচ্ছ আকৃতির ছোট ছোট সাদা ফুল হয়। আসামলতা একবার বেড়ে ওঠলে আর সহজে মরে না। আসামলতা রক্ত রোধক, জীবাণু নাশক, ও জন্ডিসে উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, বি ও সি, স্টিগমাষ্টেরল, বিটা-সাইটোস্টেরল এবং সিসকুইটার্পিন ল্যাকটোন। ঔষধে পাতা, ও সমগ্র উদ্ভিদই বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ৫-৬ টি পাতা পরিষ্কার করে ধুয়ে পিষে আক্রান্ত স্থানে লাগালে বা প্রলেব দিলে রক্তপাত বন্ধ করার ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।
- ১০ গ্রাম পরিমাণ পাতা পিষে ক্ষত বা ঘায়ে প্রলেব দিলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
- ৫০ গ্রাম কাচা হলুদ পিষে, ৫ মিঃলিঃ রেবুর রস ও ৫ মিঃলিঃ আসাম পাতার রস একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন মূখে মাখলে মেশতা সেরে যায়।
- ৫০ মিঃলিঃ পরিমাণ পাতার রস, পরিমাণ মত হলুদের সাথে মিশিয়ে সারা শরীরে নিয়মিত কয়েক দিন মাখলে, শরীরের অবাঞ্চিত দাগ সেরে যায়।
- ১০ মিঃলিঃ পরিমাণ পাতার রস নিয়মিত ৭ দিন সকাল-সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করলে , জন্ডিস রোগ সেরে যায়।
- ১০০ মিঃলিঃ পরিমাণ পাতার রস নিয়মিত ৭ দিন সকালে খালি পেটে সেবন করলে , রক্ত দূষিত রোগে উপকার পাওয়া যায়।


