নাগকেশর মাঝারি আকারের শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট চিরসবুজ ভেষজ বৃক্ষ। গাছের ছাল হালকা লাল আভাযুক্ত বাদামী বর্ণের এবং পুরনো হলে গাছের ছাল আপনাআপনি খসে পড়ে। বাবলা গাছের মত এ গাছ থেকে পিত বর্ণের আঠা বের হয়। পাতা কচি অবস্থায় লাল, পরে সবুজ বর্ণ ধারণ করে, অনেকটা তেজ পাতার মত। শাখার অগ্রভাগের পাতার কক্ষ থেকে সুগন্ধযুক্ত পিতাভ লাল, সাদা বা কাল বর্ণের ফুল হয়। পুংকেশর গুলো পীতাভ সোনালী বর্ণের। এ ফুলের কলিকে নাগেশ্বর বলা হয়। ফেব্রুয়ারী থেকে এপ্রিল মাসে ফুল হয়। নাগেশ্বর ফুলে উদ্বায়ী তেল, তিক্ত উপাদান, বিটা-এমাইরিন, বিটা-সাইটোস্টেরল এবং রজন বিদ্যমান থাকায় এটি মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। নাগেশ্বর হৃদপিন্ডের শক্তিবর্ধক, যৌন উদ্দীপক, যকৃত ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক, বলকারক , রক্ত পরিস্কার কারক। অর্শ, কৃমি, চুলকানি ও মূত্রকৃচ্ছতায় উপকারী। নাগেশ্বরের ফুল ঔষধে ব্যবহৃত হয়
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ৩ গ্রাম ফুল চুর্ণ ও ১ গ্রাম জৈন চুর্ণ একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন , দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে যকৃত ও পাকস্থলীর রোগে উপকার পাওয়া যায়।
- ১০ গ্রাম পরিমান কাচা ফুল , রাতে গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে কচলিয়ে ছেকে নিয়ে ঐ পানিটুকু ২ চা-চামচ মধু সহ সেবন করলে অর্শ রোগে উপকার পাওয়া যায়।
- ১০ গ্রাম পরিমান কাচা ফুল , ১ গ্লাস পানিতে ৪ - ৫ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে জ্বাল করে ছেকে নিয়ে নির্যাসটুকু ২ চা-চামচ মধু সহ নিয়মিত কিছুদিন সেবন করলে মূত্রকৃচ্ছতায় উপকার পাওয়া যায়।
- ৩ গ্রাম ফুল চুর্ণ করে নিয়মিত কিছুদিন , দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে শরীরের জ্বালা-পোড়ায় উপকার পাওয়া যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬


