হাড়জোড়া হল চারকোনা বিশিষ্ট সবুজ রসালো লতানো উদ্ভিদ। এর কান্ড সবুজ , কামরাঙ্গার মত বর্ধিত পক্ষল বিশিষ্ট। পাশাপাশি অবস্থিত মধ্যপর্বগুলি এমনভাবে সংযুক্ত থাকে যেন মনে হয় একটি হাড় সন্ধির মাধ্যমে আর একটি হাড়ের সাথে সংযুক্ত আছে। প্রতিটি পর্বসন্ধির এক পাস হতে একটি পাতা এবং অন্য পাস হতে একটি আকর্ষি গজায়। পাতা হৃদপিন্ডাকৃতির, লতার শীর্ষ হতে এক-একটি পর্ব জুরে শিকলের ন্যয় হাড়জোড়া বেয়ে চলে। ছোট ছোট গুচ্ছাকারে লোমযুক্ত সাদা ধরনের ফুল হয়। পাকা ফল দেখতে লাল ও রসালো এবং এর আকৃতি মটর দানার মতো। ভাঙ্গা বা মচকানো হাড় জোড়া লাগাতে পারে বলে এর নাম হয়েছে হাড়জোড়া। হাড়জোড়ায় অক্সোস্টেরয়েড, থ্রি-কিটোস্টেরয়েড, বিটা-সিটোস্টেরয়েড, ক্যারোটিন, এসকরবিক এসিড এবং ক্যালসিয়াম অক্সালেট ইত্যাদি রাসায়নিক উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। ক্ষুধাবর্দক, হজমকারক, সাধারণ বলকারক, বেদনানাশক,। হাড়ভাঙ্গা, ব্যথা-বেদনা, কর্ণবেদনা, এবং অতিরিক্ত , ঋতুস্রাবে বিশেষ কার্যকরী। হাড়জোড়ার পাতা ও মাংসল ডাটা ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- প্রয়োজনমতো ডাটা ও পাতার সাথে সমপরিমাণ রসুন ও গুগ্গুল নিয়ে সবগুলো একত্রে বেটে সামান্য গরম করে আক্রান্ত স্থানে প্রলেব দিতে হবে। উপশম না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত ১-২ দিন পরপর আক্রান্ত স্থানে প্রলেব দিয়ে যেতে হবে।
- ৫০০মিঃগ্রাঃ ডাটা চুর্ণের সাথে ১ গ্রাম শুঠ চুর্ণ ও ৫০০মিঃগ্রাঃ বিট লবণ একত্রে মিশিয়ে আহারের পর প্রত্যেহ ২ বার নিয়মিত ৭ দিন সেবন করলে পেটফাঁপা হজমের দূর্বলতায় উপকার পাওয়া যায়।
- ১ গ্রাম ডাটা চূর্ণ আধাকাপ ডালিম পাতার রসের সাথে প্রয়োজনমতো চিনি মিশিয়ে প্রত্যেহ ২ বার সেবন করতে হবে। এভাবে নিয়মিত ১-২ মাস সেবন করলে অনিয়মিত ঋতুস্রাব দুরবীত হয়ে স্বাভাবিক ঋতুস্রাব হবে।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



