অশ্বগন্ধা হল একটি ক্ষুপ জাতীয় গাছের মূল। গাছ ৫ থেকে ৬ ফুট উচু হয়। অশ্বগন্ধার মূল আঙ্গুলের ন্যায় এবং বেস নরম, ভাঙ্গলে ভিতরে সাদা দেখা যায়। ফল মটরের ন্যায় গোলাকার , কাচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে হলুদ কিংবা লাল বর্ণ ধারণ করে। বীজ বেগুন বীজের মত। কাচা গাছ থেকে ঘোড়ার গায়ের গন্ধ আসে বলে এর নাম অশ্বগন্ধা। প্রতি বছর অক্টোবর হতে মে মাস পর্যন্ত অশ্বগন্ধা গাছ জন্মে এবং ফুল ও ফল হয়। গেটেবাতে সুরঞ্জান এর মত কাজ করে। এর প্রলেপ ফুলা নাশ করে এবং ফোড়া পাকায়। অশ্বগন্ধা অতিরিক্ত ঋতুস্রাব বন্ধ করে িএবং অর্শ্বের রক্তপাত বন্ধ করে। জ্বর, যক্ষাজ্বর ও রক্তদোষ জনিত রোগ, ধবল রোগ নিবারক ও বর্ণ পরিস্কার কারক। সিফিলিস ও প্লেগ রোগে উপকারী। অশ্বগন্ধা প্রস্রাব কারক , নিদ্রা কারক এবং দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণ শক্তি বর্দ্ধক। অশ্বগন্ধার মূলে ট্রপেন অ্যালকালয়েড ও বিভিন্ন ষ্টেরয়েড ল্যাকটোন, যথা উইদানোলাইড, উইদাফেরিন ইত্যাদি উপাদান বিদ্যমান আছে বলে এটি মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। অশ্বগন্ধার গাছ, শিকড় ও বীজ ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ৩ থেকে ৪ গ্রাম পরিমাণ মূল চুর্ণ ১০০ মিঃলিঃ গরম দুধের সাথে মিশিয়ে নিয়মিত ১ থেকে ২ মাস দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে শারীরিক ও স্নায়ু দুর্বলতায় উপকার হয়।
- ৩ থেকে ৪ গ্রাম পরিমাণ মূল চুর্ণ প্রয়োজন মত মধু ও ঘি মিশিয়ে নিয়মিত ৫-৭ দিন রাত্রে শয়নকালে সেবন করলে অনিদ্রা দুর হয়ে সুনিদ্রা আনয়ন হয়।
- ৩ থেকে ৪ গ্রাম পরিমাণ মূল চুর্ণ ২ চামচ মধু ও ২০০ মিঃলিঃ গরম দুধের সাথে মিশিয়ে নিয়মিত ১ মাস দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে শুক্রক্ষয় ও যৌন দুর্বলতায় উপকার পাওয়া যায়।
- ২ থেকে ৩ গ্রাম পরিমাণ মূল চুর্ণ ২ চামচ মধু মিশিয়ে লেহন বা চেটে চেটে নিয়মিত ১-২ মাস দৈনিক ২-৩ বার সেবন করলে পুরাতন ব্রঙ্কাইটিসে উপকার পাওয়া যায়।


