বাবলা গাছ মাঝারী ধরনের কাটাযুক্ত ভেষজ বৃক্ষ। এটি সাধারণত ১৫-৩০ ফুট পর্যন্ত উচু হয়। পাতা দেখতে অনেকটা তেতুঁল পাতার ন্যায়। সরল ও ধুসর বর্ণের অবনত শাখার গিটায় ছোট ছোট কাটা হয়। বিশেষত ছোট গাছে কাটা বেশি থাকে। ফুল গোলাকার উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের। মটর সাদৃশ্য বলে মনে হলেও লোমযুক্ত। ফল ছোট চেপ্টা মেটে ও কাল বর্ণের এবং ক্ষুদ্র লোমযুক্ত ৮ থেকে ১০ টি বীজ হয়। বাবলা গাছ ধুসর বর্ণের এবং বেশ শক্ত। গ্রীষ্ম কালে ফুল আর শীত কালে ফল হয়। বাবলা ফুলের আরক গরম জনিত হৃদকম্প রোগে উপকারী। পাতা আমাশয় ও উদরাময় নিবারক। পাতা, ছাল ও ফুল বীর্য গাঢ়কারক ও শ্বেতপ্রদর নিবারক এবং রেহেমের শৈথিল্যতা নাশক ও দাঁতের মাড়ি শক্তকারক। জোসান্দা মুখে ঘা ও মাড়ি থেকে রক্ত আসা বন্ধ করে । বাবলা ছাল ও বীজ দাঁত নড়া ও পাইওরিয়া রোগ নাশক। বাবলা গাছের আঠা প্রধান উপাদান এরাবিন, পাতা এবং ফলে ট্যানিন আছে। কান্ড ও মুলের বাকলে ট্যানিন, পলিফিনল, গ্যালিক এসিড, বিটুলিন ইত্যাদি রাসায়নিক উপাদান আছে। বাবলা ছাল, পাতা, গাছ, ফুল, গাম এবং ঘনসার ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ২ গ্রাম পরিমাণ আঠা চুর্ন , ৩ চা-চামচ তুলসী পাতার রস ও ৪ চা-চামচ মধু একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত ১-২ মাস , দৈনিক ২/৩ বার করে সেবন করলে কফ ও শ্বাসকষ্টে উপকার পাওয়া যায়।
- ১ গ্রাম পরিমাণ আঠা চুর্ন , সমপরিমাণ অশ্বগন্ধা চুর্ণ ও পরিমাণমত মধু মিশিয়ে নিয়মিত ২০-২৫ দিন, দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে শুক্রতারল্য ও শারীরিক দুর্বলতা সেরে যায়।
- ৫ গ্রাম পরিমাণ কচি পাতার সাথে সমপরিমাণ বেলশুঁঠ ২০০ মিঃলিঃ পানিতে মিশিয়ে জ্বাল করে ১০০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে প্রয়োজনমত মধু মিশিয়ে নিয়মিত ৫-৭ দিন, দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে পাতলা পায়খানা ও আমাশয়ে উপকার পাওয়া যায়।
- ১ গ্রাম পরিমাণ বীজ চুর্ণ দুধের সাথে মিশিয়ে নিয়মিত ১-২ মাস , দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে আলসার রোগে উপকার পাওয়া যায়।



