দুধিয়া ছোট প্রকৃতির ভেষজ উদ্ভিদ। এটি একটি সরু কান্ড যুক্ত যার গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত বহু শাখা-প্রশাখা রয়েছে। দুধিয়া বিশেষ করে পতিত জমিতে, বাগানে বা রাস্তার পাশে প্রাকৃতিক ভাবেই জন্মে থাকে। গাছ থেকে বীজ পরে এমনেতেই নতুন ছাড়া গজিয়ে বংশ বৃদ্ধি পায়। পাতা ডিম্বাকৃতির ছোট ছোট সবুজাভ লাল বর্ণের। পাতা ও কান্ড ভাঙ্গলে দুধের ন্যয় কষ বের হয়। পাতার শিরাগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। পুষ্প বৃন্ত ছোট, ফুল খুব ছোট ছোট , সাদাটে, কোমল ও লোমযুক্ত । বীজ গোলাকৃতির ও ফিকে ধূসর বর্ণের। দুধিয়া স্নায়ুবিক শক্তিবর্ধক, সংকোচক, শান্তকারক, ও রক্ত পরিস্কারক। গণোরিয়া, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, রক্ত অর্শ, বক্ষপ্রদাহ, শ্বাসকষ্ট,হাঁপানি, কাশি, শ্বেতপ্রদর ও স্তন্যদুগ্ধের স্বল্পতায় কার্যকরী ভুমিকা রাখে। দুধিয়াতে রয়েছে টক্সিক গ্লাইকোসাইড, কোলিন স্কিমিটিক এসিড, কোরসিটল ইত্যাদি রাসায়নিক উপাদান। এর পাতা, ফুল, ফল তথা সমগ্র উদ্ভিদই ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ৩ গ্রাম পরিমাণ চুর্ণ ও সমপরিমাণ তুলসীপাতা একত্রে মিশিয়ে ২০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল দিয়ে ১০০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে প্রয়োজনমত মধু মিশিয়ে নিয়মিত ২০-২৫ দিন দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে শ্বাসকষ্ট রোগে উপকার পাওয়া যায়।
- ৫০০ মিঃগ্রাঃ মিহি চুর্ণ ২ চা-চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে নিয়মিত ১-২ মাস, দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে স্নায়ুবিক দুর্বলতায় উপকার পাওয়া যায়।
- ৫ গ্রাম পরিমাণ শুস্কচুর্ণ ২০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল দিয়ে ১০০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে ১০ গ্রাম পরিমাণ কালিজিরাসহ নিয়মিত ৭-৮ দিন, প্রতি রাতে শয়নকালে সেবন করলে স্তন্যদুগ্ধ স্বল্পতা সেরে গিয়ে স্তন্যদুগ্ধ বৃদ্ধি পায়।
- গাছের আঠা আক্রান্ত স্থানে নিয়মিত কয়েক দিন লাগালে দাদ রোগে উপকার পাওয়া যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



