মুক্তোঝুরি একটি অতি পরিচিত এক প্রকার ছোট বীরুৎ জাতীয় বর্ষজীবী গুল্ম। ইহা ১ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত উচু হয়ে থাকে। ছোট ছোট শাখা-প্রশাখা বের হয়। পাতা ডিম্বাকৃতি, কিন্তু গোড়ার দিক একটু সরু। এর কিনারা করাতের মত খাঁজ কাটা এবং পাতায় মসৃণ লোম থাকে। দেখতে ফিকে সবুজ রঙের। পাতার বোটা পাতা অপেক্ষা লম্বা ও নরম। ফুলের বোটা ফুল অপেক্ষা ছোট ও সবুজ বর্ণের। পুষ্প মঞ্জরীতে অবস্থিত, একলিঙ্গ, বৃন্তহীন, পুংপুষ্প এবং স্ত্রীপুষ্প পৃথক। ফল বড় মঞ্জরীপত্র দ্ধারা আবৃত থাকে। বীজকোষ আকারে ছোট ও এক বীজ বিশিষ্ট। মুক্তোঝুরি শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, শ্লেষ্মা নিঃসারক, ক্রিমিনাশক, কোষ্ট পরিষ্কারকারক, নিউমোনিয়া, বাত ব্যথা প্রভৃতি রোগে হিতকর। মুক্তোঝুরিতে রয়েছে অ্যালকালয়েড একালাইফামাইড, বিভিন্ন এমাইড, কুইনন ও স্টেরল এর মত মুল্যবান উপাদান যাহা মানব দেহের জন্য খুবই উপকার। মুক্তোঝুরির সমগ্র উদ্ভিদই ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারন গুণাগুণঃ
- ২ গ্রাম পরিমাণ মুক্তোঝুরি ও সমপরিমাণ সোনাপাতা একত্রে মিশিয়ে ১০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল করে , ৫০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে নিয়মিত ৫-৭ দিন, রাতে শয়নকালে সেবন করলে কোষ্টকাঠিন্য দুরবীত হয়ে স্বাভাবিক মল ত্যাগ হয়।
- ৫ মিঃলিঃ রস ৫০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল করে ২০-২৫ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিয়মিত ৪-৫ দিন , দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে শিশুদের সর্দি রোগে উপকার হয়া
- ২০ মিঃলিঃ পাতার রস ও সমপরিমাণ তুলসী পাতার রস এবং ৩ চা-চামচ মধু একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত ২০-২৫ দিন , দৈনিক ৩ বার করে সেবন করলে কাশি, ব্রংকাইটিস ও হাঁপানি রোগে উপকার পাওয়া যায়।
- ১০ মিঃলিঃ রস সমপরিমাণ পানির সাথে মিশিয়ে নিয়মিত ৫-৭ দিন, দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে শিশুদের ক্রিমিনাশ করে।
- মুক্তোঝুরির পাতা বেটে আক্রান্ত স্থানে প্রলেব দিলে, ছুলি রোগ সেরে যায়।
- মুক্তোঝুরির পাতার রস , তিলের তেলের সাথে জ্বাল করে আক্রান্ত স্থানে লাগালে বাত ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।


