দেবদারু এক প্রকার চিরহরিৎ বেশ বড় ধরনের শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট ভেষজ বৃক্ষ। এর বাকল পুরু, উপরে ফাটা ফাটা দাগ থাকে। পাতা গাঢ় সবুজ বর্ণের , মসৃণ ও সরু লম্বা। দেখতে অনেকটা বর্শার ফলকের মতো দীর্ঘ। এর কচি পাতার রং হলুদ ও সবুজের সংমিশ্র্রণ থাকে। গাছের পাতা বসন্তকালে সাধারনত ঝরে যায়। দেবদারুর ফুল থেকে পরিণত অবস্থায় একগুচ্ছ ফল হয়। ফল কচি অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হালকা বেগুনী-হলুদ বর্ণ ধারন করে। আগষ্ট-জুলাই মাসে ফল পাকে। দেবদারু মুত্রবর্ধক, পাচক, ও কপ নিঃসারক। অর্শ , শোথ, মুত্রযন্ত্রের প্রদাহ, ব্রণ, খোস-পাঁচড়া, চুলকানি, গণোরিয়া ও হিক্কায় কার্যকরী। গাছের পাতার প্রধান উপাদান হলো পলিরঙ্গিন অ্যালকালয়েড। এর বাকলে রয়েছে বিভিন্ন অ্যালকালয়েড, ট্যানিন এবং রেজিন। দেবদারু গাছের পাতা, বাকল, বীজ, কাঠ ও তেল ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ২০ গ্রাম পরিমাণ আধা চুর্ণ বাকল ১০০ মিঃলিঃ পানিতে জ্বাল করে ৫০ মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে ১ গ্লাস ডাবের পানির সাথে মিশিয়ে নিয়মিত কয়েক দিন রোজ ২ বার করে সেবন করলে প্রস্রাবের জ্বালা-পোড়ায় উপকার পাওয়া যায়।
- গাছের বাকল বেটে ১৫-২০ মিঃলিঃ রস বের করে , নিয়মিত কিছুদিন দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে জ্বর সেরে যায়। জ্বরের জন্য অত্যান্ত কার্যকরী এই দেবদারু।
- ২০ মিঃলিঃ পরিমাণ বাকলের রস, ও সমপরিমাণ তুলসী পাতার রস একত্রে মিশিয়ে ৪ চা-চামচ মধুসহ নিয়মিত ১৫-২০ দিন, দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে শ্বাসকষ্ট ও আটকে থাকা কপে উপকার পাওয়া যায়।
- পরিমাণমত গাছের ছাল উত্তমরুপে পিষে , নিয়মিত কিছুদিন, দৈনিক ২ বার করে আক্রান্ত স্থানে প্রলেব দিলে চুলকানি সেরে যায়।
- ২৫ মিঃলিঃ বাকলের রস ও সমপরিমাণ গুলঞ্চের রস এবং পরিমাণমত মধু একত্রে মিশিয়ে , নিয়মিত ২০-২৫ দিন , দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে খোস-পাচঁড়ায় উপকার পাওয়া যায়।



