বরুন এক প্রকার মাঝারি ধরনের বৃক্ষ। এটি প্রচুর শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট গাছ। গাছের ছাল ধুসর বর্ণের এবং স্বাদে তিক্ত হয়। প্রতি বোটায় তিনটি পাতা হয়, দেখতে অনেকটা বেল পাতার মত, তবে আকারে কিছুটা বড় হয়। মাঝের পাতার অগ্রভাগ সরু ও লম্বাকৃতির। ফুলের পাপড়ি ঘিয়া রংয়ের। কেশরগুলো লম্বা, মাঘ ফাল্গুন মাসে গাছের পাতা ঝড়ে গিয়ে নতুন পাতা গজায়। তারপর ফুল ও ফল হয়। ফলগুলো আকারে কয়েৎবেলের মতো। বরুন কিডনি ও পিত্তথলির পাথর অপসারক। মুত্রবর্ধক, জ্বর নিবারক, পিত্ত প্রশমক, ক্ষুধাবর্ধক, বমন নিবারক, বাত ব্যথা নিবারক, মৃদু বিরেচক, রক্ত পরিস্কারক এবং মাসিকস্রাব পরিস্কার কারক। বরুনে রাসায়নিক উপাদান ফ্রাইডেলিন, ক্যাডাবাইসিন, লিউপিওল, কুরাসেটিন ও বিটা-সিটোস্টেরল এর মতো আরো মুল্যমান উপাদান বিদ্যমান থাকায় ইহা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী। পাতা, বাকল, ফুল ও ফল ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ১ গ্রাম পরিমাণ বাকল চূর্ণ , সমপরিমাণ জৈন চুর্ণ ও ৫০ মিঃগ্রাঃ বিটলবন একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত ১৫-২০ দিন দৈনিক ২ বার আহারের পর সেবন করলে দুর্বল হজমশক্তি ও ক্ষুধামান্দা দুর হয়।
- ৩০ মিঃলিঃ বাকলের রস , ১ গ্লাস ডাবের পানির সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২ বার করে নিয়মিত কিছুদিন সেবন করলে মুত্রকৃচ্ছতা ও প্রস্রাবের জ্বালা-পোড়া সেরে যায়।
- ১৫ মিঃ লিঃ পাতার রস ও সমপরিমাণ নিম পাতার রসের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২ বার করে নিয়মিত ১৫-২০ দিন সেবন করলে খোস পাচড়া ও চুলকানি সেরে যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি,ইউ,এম,এস (ঢাকা)কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬



