দুর্বা ঘাস আমাদের দেশের একটি অতি পরিচিত ঘাস। এটি রাস্তার ধারে, অযত্ন অবহেলায় বসত বাড়ির আনাচে-কানাচে, পতিত জমিতে ,বনে-জঙ্গলে প্রভৃতি স্থানে প্রচুর জন্মে থাকে। দুর্বা ঘাস বহুবর্ষজিবী শয়ান লতানো বীরুৎ জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। প্রত্যেক পর্ব থেকে নিচে গুচ্ছমূল এবং উপরে সবুজ পত্রযুক্ত একগুচ্ছ শাখা বের হয় । পাতা সরু , লম্বা ও মসৃণ, দুই সারিতে সজ্জিত। দুর্বা ঘাসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ঔষধ ী গুণাগুণ। আঘাত জনিত রক্তপাত, শ্বেতপ্রদর জনিত দুর্বলতা, অধিক ঋতুস্রাব, চর্মরোগ, আমাশয় ও দন্তরোগে দুর্বা ঘাস খুবই উপকারী। দুর্বা ঘাসে রয়েছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, শর্করা, আঁশ, এনজাইমসহ আরো বেশ কিছু রাসায়নিক উপাদান যাহা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। ঔষধে পাতা, শিকর তথা সমস্ত অংশই ব্যবহৃত হয়।
সারারণ গুণাগুণঃ
- ৫-১০ মিঃলিঃ দুর্বা ঘাসের রস ও সমপরিমাণ কাঁচা দুধ একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন, দৈনিক ২ বার সকাল-সন্ধ্যা খালি পেটে সেবন করলে রক্তপিন্ড রোগে উপকার পাওয়া যায়।
- পরিমানমত আতপ চাল ও সমপরিমাণ দুর্বা ঘাস একত্রে বেটে বড়ি বানিয়ে , প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন করে নিয়মিত কয়েক মাস ভাতের সাথে সেবন করলে বন্দাত্বে উপকার পাওয়া যায়।
- দুর্বা ঘাস শুকিয়ে গুড়ো করে নিয়মিত ১-২ মাস দাঁত মাজন করলে পায়োরিয়া সেরে যায়।
- দুর্বার রসের সাথে নারিকেল তেল জ্বাল করে , ঠান্ডা হওয়ার পর মাথায় মাখলে, মাথার চুল পরা বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।
- ক্ষত স্থানে দুর্বা ঘাসের পেস্ট বানিয়ে লাগালে, রক্তপরা বন্ধ হয়।
- ২০ মিঃলিঃ দুর্বা ঘাস ও ২০০ মিঃলিঃ দুধ একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন সেবন করলে রক্ত-অর্শ রোগে উপকার পাওয়া যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।




Fine
ReplyDelete