রসুন অতি পরিচিত বর্ষজীবী সাধরণ সব্জি জাতীয় বহুকোষ বিশিষ্ট উদ্ভিদ। এরূপ ভূ-নিম্নস্থ রূপান্তরিত কান্ডকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ভাষায় কন্দ (Bulb) বলে। শীতকালে রসুনের ফুল ও ফল হয়। রসুন কন্ঠনালী ও স্বর পরিস্কার করে, সর্দি, কাশি ও হাঁপানীতে উপকারী। রসুনে ভিটামিন এ, বি, সি ও ডি থাকার কারনে এটা ব্যবহারে বহু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রসুনে রয়েছে থিয়ামিন, রিবোফ্লাবিন, নায়াসিন, প্যান্টোথেনিক এসিড, ভিটামিন বি-৬, ফোলেট ও সেলেনিয়াম। সেলেনিয়াম ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ কাজ করে। রসুনের মধ্যে রয়েছে এলসিলিন নামে এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা ক্যানসার সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে কার্যকারী। রসুনের গুণের শেষ নেই। কোলেস্টেরল, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন কমায় রসুন। হৃদপিন্ড ভাল রাখে ও রক্ত পরিশুদ্ধ করে। রসুনের কন্দ মূল, পুষ্পনল, বীজ ও গাছ ঔষধে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণ ঃ
- রসুনে ভিটামিন এ,বি, সি, ও ডি থাকার কারনে এটা ব্যবহারে বহু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রসুন বায়ু ও ফুলা নাশক। রসুন উষ্ণবীর্য , বলকারক,শুক্রবর্ধক,রসায়ন।
- পেট ফাঁপায় ২/৩ কোয়া রসুন লবন সহ খেলে অল্প সময়েই পেট ফাঁপা নিরাময় হয়।
- ২০-৩০ ফোঁটা রসুনের রস সেবনে ক্রিমিনাশকের কাজ হয়।
- ২/৩ কোয়া রসুন বেটে অল্প গরম দুধের সাথে মিশিয়ে নিয়মিত এক মাস খেলে শুক্র গাঢ় হয়। এর ফলে শরীরের প্রাত্যহিক ক্ষয় বন্ধ হয়, অস্থি-ক্ষয় কম হয় এবং বল বৃদ্ধি পায়।
- ১/২ কোয়া রসুন বেটে আমলকির ২ চামচ রসের সাথে মিশিয়ে খেলে যৌবন অটুট থাকে। যৌবনের প্রারম্ভ থেকে এটি খাওয়া উচি’।
- ১/২ কোয়া রসুন চিবিয়ে এক গ্লাস গরম দুধ খেলে মেধা বৃদ্ধি পায়, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
- রক্তচাপ শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নিয়মিত রসুন খেলে উচ্চ রক্তচাপে সুফল পাওয়া যায়। প্রতি দিন খালি পেটে রসুন খেলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলে ও ভাল উপকার পাওয়া যায়।
- রাতে এক মুষ্টি পরিমান ছোলা ভিজিয়ে রেখে সকালে ২ কোয়া রসুন সহ ঐ ছোলাগুলো খালি পেটে নিয়মিত খেলে ডায়বেটিস বা বহুমুত্ররোগে বিশেষ উপকার পাওয়া যায় এবং দৃষ্টিশক্তি ও বৃদ্ধি পায়।
- উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য অনেক পথ্যের অন্যতম রসুন। শরীরের এলডিএল বেড়ে যাওয়ার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়, নিয়মিত প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন সকারে খালি পেটে খেলে উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা থাকে না।
- রসুন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
- রসুন পুরুষের বীর্য তৈরি করতে সাহায্য করে।
- ইরেক্টাইল ডিসফাংশন সমস্যা দুর করতে সাহায্য করে।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য জানতে পারবেন। ধন্যবাদ।
হাকীম মোঃ গাজীউর রহমান ফিরোজ
ডি ইউ এম এস (ঢাকা), কিউ,এইচ,সি,এ
ইউনানী ফিজিশিয়ান
মেবাইল নং ০১৭১৫-৪৯৮১০৬




প্রতিদিন কি খেতে হবে
ReplyDelete