করবী একটি সরল, ডালযুক্ত ছোট আকারের গাছ। এর উচ্ছতা ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। গাছের গোড়া থেকে বহু শাখা-প্রশাখা বের হয়। পাতা সরল, প্রতি গিটে ১টি, ২টি, বা ৩টি পাতা ও থাকে। পাতা সরু ও লম্বা এবং পাতার নীচে খসখসে ও অমসৃণ থাকে। ফুল সাদা, কাল, লাল ও হলুদ এই চার বর্ণের হয়ে থাকে।ফুল মঞ্জরীতে অবস্থিত, উভলিঙ্গ। বৃতি, পাপড়ি, ও পুংকেশর ৫টি করে, গর্ভকেশর ২টি। ফল ফেটে গাবের মতো লম্বা বীজ বের হয়ে যায়। করবী ফুলের গাছ কাটলে বা উঠালে হলুদ বর্ণের আঠালো দুধ বের হয়। ফল লম্বা ,বীজ রোমযুক্ত। করবী বর্ণ পরিস্কার কারক , যৌনশক্তিবর্ধক, মুত্রবর্ধক, হৃদযন্ত্রের শক্তিবর্ধক, সন্ধিপ্রদাহ ও পাকস্থলীর ব্যথায় উপকারী। বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ যেমন-খোস পাঁচড়া, দাদঁ, একজিমা, ও কোষ্ঠরোগে উপকারী। করবীতে অলিয়েন্ড্রিন, নিরিওডিন, এডাইনেরিন, ক্যারাবিন ও অডোরিন এর মতো মূল্যবান রাসায়নিক উপাদান বিদ্যমান থাকে। ঔষধে পাতা, ফুল, ফল, বাকল ও মূল ব্যবহৃত হয়।
সাধারণ গুণাগুণঃ
- ৫ মিঃলিঃ পাতার রস ১০ মিঃলিঃ নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে , নিয়মিত কিছুদিন আক্রান্ত-স্থানে দৈনিক ২ বার করে লাগালে খোস-পাঁচড়া ও চুলকানি সেরে যায়।
- ১ গ্রাম পরিমাণ মূলের বাকল ও ১০ গ্রাম পরিমাণ কাচা গুলঞ্চ একত্রে মিশিয়ে ২০০মিঃলিঃ পানিতে সিদ্ধ করে ১০০মিঃলিঃ থাকতে নামিয়ে ছেকে প্রয়োজন মত মধু মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন ,দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে মুত্রকৃচ্ছতায় উপকার পাওয়া যায়।
- ৫ মিঃগ্রাঃ বাকল চুর্ণ ও সমপরিমাণ শুঠচুর্ণ একত্রে মিশিয়ে নিয়মিত ৫-৬ দিন , দৈনিক ২ বার করে সেবন করলে , পেট ফাপা ও পাকস্থলীর ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।
- প্রয়োজন মত পাতা বেটে আক্রান্ত স্থানে নিয়মিত কয়েকদিন প্রলেপ দিলে ক্ষত বা ঘা শুকিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ধারণ করে।
- করবীর তেল দৈনিক ২/৩ বার করে আক্রান্ত স্থানে মেসেজ করলে , সন্ধি ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়।
আশাকরি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে ও উপকৃত হয়েছেন। ব্লগগুলো নিয়মিত পড়লে চিকিৎসা বিষয়ক নতুন নতুন তথ্য পাবেন ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ।




চমৎকার
ReplyDelete